মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

এক নজর

এক নজরে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগ

 

 

ভূমিকা ঃ কক্সবাজার বনাঞ্চল বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য বনজসম্পদ সমৃদ্ধ বনাঞ্চল। একদা সেটি প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর ছিল, ছিল বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের সমারোহে বনরাজি। গগনে মাথা উঁচু করে থাকত এ অঞ্চলের গর্ব এবং গ্রীষ্মমন্ডলীয় চিরসবুজ বনের বৈশিষ্ট্যমন্ডিত প্রজাতি-গর্জন। পাখির মুহুর্মুহু কুঞ্জন, পোকামাকড়ের নিরবিচ্ছিন্ন কলতান, ঝর্ণার কুলকুল ধক্ষনিতে সরব ছিল এ বনভূমি। বন্যপ্রাণীর পদচারনায় ভীতিকর পরিবেশ বিরাজ করতো পাহাড়-পর্বতে। জীববৈচিত্র্য ভরপুর ছিল প্রাকৃতিক বনাঞ্চল। আসমুদ্র শৈল-শিখর বিস্তৃত কক্সবাজারের পাহাড়ী বনাঞ্চল বাস্তবিদ্যার ভিত্তিতে গ্রীষ্মমন্ডলীয় চিরসবুজ বন ও গ্রীষ্মমন্ডলীয় অর্ধ চিরসুবজ বনের অন্তর্ভূক্ত। গ্রীষ্মমন্ডলীয় চিরসবুজ বন অনিয়মিত উপরিস্তর বিশিষ্ট দৈর্ঘ্যের বৃক্ষের সমন্বয়ে গঠিত। এ বনে যৎসামান্য পর্ণমোচী বৃক্ষের উপস্থিতি থাকলেও তা বনের চিরসবুজ বৈশিষ্ট্যকে প্রভাবিত করে না। এ জাতীয় বনের নিম্নস্তরে বাঁশ ও বেতের প্রাচুর্য পরিলক্ষিত হয়। উঁচু পাহাড়ের ছায়া শীতল পাদদেশের অথবা গভীর উপত্যকার আর্দ্র ভূমিতে এইরূপ বৈশিষ্ট্যের বন দেখা যায়। চাপালিশ, তেলসুর, চন্দুল, পিতরাজ, আম, তুন, জাম প্রভৃতি এ জাতীয় বনের প্রধান বৃক্ষ।কক্সবাজার বনাঞ্চলে সিংহভাগ জুড়ে রয়েছে বহুস্তর বিশিষ্ট গ্রীষ্মমন্ডলীয় আংশিক চিরসবুজ বন। এ বনের নীচের স্তর চিরসবুজ প্রজাতির সমন্বয়ে এবং উপরিস্তর চিরসবুজ ও পর্নমোচী প্রজাতির সমন্বয়ে গঠিত। পর্নমোচী প্রজাতিগুলি পরিবর্তনশীল ও স্বল্পকালীন পর্নমোচী প্রজাতির তেলসুর, গর্জন, কড়ই, উড়ি আম, বান্দরহোলা প্রভৃতি এ জাতীয় বনের  উপরিস্তরের বৃক্ষ। মধ্যস্তরে চাপালিশ, বাটনা, পিতরাজ, হারগাজা, বহেরা, কনক, হরিতকি, গাব, ভাদি, উদল প্রভৃতি প্রজাতি এবং নীচের স্তর জারুল, কদম, ভাদী, বাটনা, হিজল, গোদা, গুটগুটিয়া প্রভৃতি চিরসবুজ প্রজাতির সমন্বয়ে গঠিত। জীববৈচিত্র্যে ভরপুর প্রাকৃতিক এ বনাঞ্চল এক পর্যায়ে এসে বৈচিত্র্য হারাতে শুরু করে। হুমকির সম্মুখীন হয় সকল বন্যপ্রাণী। বার্মায় সৃষ্ট জাতিগত দ্বন্দ্ব, ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতা এবং বার্মা সম্রাট কর্তৃক আরাকান দখল প্রভৃতি কারণে উক্ত এলাকা হতে এতদ অঞ্চলে জনসমাগম ঘটতে থাকে। তারা জীবিকা নির্বাহের জন্য জঙ্গল পরিস্কার করে জুম চাষ শুরু করে। পরবর্তীতে মায়ানমার থেকে উদ্বাস্তদের পূর্নবাসনের জন্য কোম্পানী সরকার ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সকে নিয়োগ করে। বিস্তীর্ণ এলাকা জনশুণ্য থাকার কারণে আশপাশের এলাকা হতে বহুভাগ্য বঞ্চিত ভাসমান জনসাধারণ এখানে এসে ভীড় জমায়। তারা ক্রমবর্ধমান হারে এখানে আবাসন গড়ে তোলে। বিকল্প কোন আয়ের উৎস না থাকায় তারা জীবিকা নির্বাহের জন্য বনজ সম্পদ আহরনের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

 

বন ব্যবস্থাপনার প্রবর্তন ঃ ১৮৬২ সালে পাবর্ত্য চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসনের অধীন বন রাজস্ব আদায়ের জন্য বিভিন্ন স্থানে টোল ষ্টেশন স্থাপন করা হয়। ১৮৬৫ সালে ৭ নং আইনের ২ নং ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তৎকালীন বৃটিশ সরকার কর্তৃক বৃহত্তর পাবর্ত্য চট্টগ্রামের ৬৮৮২.০ বর্গমাইলে মধ্যে ৫৬৭০.০ বর্গ মাইল এলাকা সরকারী বনাঞ্চল হিসেবে ঘোষণার মাধ্যমে (কলকাতা গেজেট ০১/০২/১৮৭১) এ অঞ্চলের বন ব্যবস্থাপনার সূচনা হয়।এ সময় ফরেষ্ট টোল ষ্টেশনগুলোর দায়িত্ব রাজস্ব বিভাগ থেকে বন বিভাগের নিকট হস্তান্তর করা হয়। পাবর্ত্য চট্টগ্রামের  বনাঞ্চলের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন একজন সহকারী বন সংরক্ষক। তাঁর সদর দপ্তর ছিল কাপ্তাইয়ে। উক্ত সহকারী বন সংরক্ষক সরাসরি জেলা ম্যাজিষ্টেটের নিয়ন্ত্রনাধীন ছিলেন এবং চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার পদাধিকার বলে বন সংরক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। ১৮৭১ সালে সর্বপ্রথম মায়ানমার (তৎকালীন বার্মা) থেকে সেগুনবীজ সংগ্রহ করে কাপ্তাইয়ে সেগুন বাগান সৃজনের কাজ শুরু হয় ১৮৭৫ সালে তৎকালীন অখন্ড বাংলার বন সংরক্ষক জার্মান বন বিদ স্যার ইউলিয়াম শ্লিচ (ঝরৎ ডরষষরধস ঝপযষরপয ক.ঈ.ও.ঊ) সর্বপ্রথম হেলিকপ্টার যোগে চট্টগ্রাম পার্বত্য চট্টগ্রামের বনাঞ্চল পরিদর্শন করে বনজ সম্পদে প্রাচুর্য্য দেখে মুগ্ধ হন এবং বন ব্যবস্থাপনার দূর্বল দিক সমূহ চিহ্নিত করে তা  জোরদার করার জন্য সুপারিশ সহকারে বৃটিশ সরকারের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করেন। বস্তুতপক্ষে তার এ রিপোর্টের বিত্তিতে এ অঞ্চলের বন ব্যবস্থাপনার অগ্র যাত্রার শুরু হয়। ১৮৭৫ সালে মাইনী, ১৮৮০ সালে মাতামুহুরী এবং ১৮৮১ সালে কাসালং সংরক্ষিত বনাঞ্চল হিসেবে ঘোষিত হয়্ ১৮৯৩ সালে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামের (কক্সবাজার সহ) বনাঞ্চল নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বন বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯০৯ সালে এ বন বিভাগকে বিভক্তকরে পাবর্ত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম বন বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং চট্টগ্রাম বন বিভাগের সদর দপ্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা হয়। সে সময় কক্সবাজারের বনাঞ্চল চট্টগ্রাম বন বিভাগের আওতায় উপ বিভাগের (ঝঁন উরারংরড়হ) নিয়ন্ত্রনাধীন ছিল। ১৯০৩ সালে চকরিয়া সুন্দরবন এবং ১৯০৭ সালে রেজু, কক্সবাজার, টেকনাফ, গর্জনিয়া, খুটাখালী ইত্যাদি বনাঞ্চলকে সংরক্ষিত ঘোষনা করা হয়।

 

 

            বন ব্যবস্থাপনা আরো নিবিড়ভাবে সম্পাদন করার উদ্দেশ্যে ১৯২০ সালের ১লা এপ্রিল চট্টগ্রাম বন বিভাগকে দু’ভাগে বিভক্ত করে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বন বিভাগের সৃষ্টি করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৩২ সালে বেঙ্গল রিট্রেসমেন্ট কমিটির সুপারিশ অনুসারে ১৯৩৩ সালের ১লা জুলাই পুনরায় এ দুটি বন বিভাগকে একত্রিত করে চট্টগ্রাম বন বিভাগ নামকরণ করা হয়। পরবর্তীতে জনাব কিউ, গনি এর কার্যকরী পরিকল্পনার প্রস্তাব অনুযায়ী ১৯৫১ সালে আবার চট্টগ্রাম বন বিভাগকে বিভক্ত করে কক্সবাজার বন বিভাগ সৃষ্টি করা হয়। সর্বশেষ ২০০১ সালে কক্সবাজার বন বিভাগকে বিভক্ত করে কক্সবাজার উত্তর ও দক্ষিণ বন বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়। তৎপ্রেক্ষিতে ১৯/০৭/২০০১ইং তারিখ থেকে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের অফিসিয়াল কার্যক্রম শুরু করা হয়।

রক্ষিত এলাকাসমুহ ( চৎড়ঃবপঃবফ অৎবধং ) :

 

টেকনাফ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ঃ বিশ্ব বিখ্যাত এশিয়ান হাতী সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আদেশ, ১৯৭৩ এর ২৩ ধারার বিধান মতে গেজেট বিজ্ঞপ্তি নং- ঢওও/ফর/৬৫/৮৩/৮৭০ তারিখ ঃ ০১/১১/৮৩ ইং মূলে টেকনাফ রেঞ্জের- ১৪,৯৩৯.০ একর , হোয়াইক্যং রেঞ্জে- ৬,৪৪৭.০ একর ও শীলখালী রেঞ্জে- ৭৩০২.০ একর সহ মোট ২৮,৬৮৮.০ একর বনভূমি নিয়ে টেকনাফ গেইম রিজার্ভ(এলিফ্যান্ট) গঠন করা হয়। ২০১০ সালের ২৪ মার্চ মাস হতে এটিকে টেকনাফ বন্যপ্রানী অভয়ারন্য ঘোষণা করা হয়।  কার্যক্রম শুরু করা হয়।টেকনাফ পেনিনসুলায় অবস্থিত জীববৈচিত্রের এক অন্যন্য আধার টেকনাফ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। এখানে ৫৩৬ প্রজাতির উদ্ভিদ এবং ৬১৩ প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। উদ্ভিদের মধ্যে ১৪২ প্রজাতির গাছ, ১১২ প্রজাতির গুল্ম, ১৮৪ প্রজাতির বিরুৎ, ৮৭ প্রজাতির লতা, ১০ প্রজাতির অর্কিড এবং ১ প্রজাতির পরজীবি রয়েছে। অনুরুপভাবে প্রাণীর মধ্যে ১৯৮ প্রজাতির অমেরুদন্ডী, ৪৮ প্রজাতির মাছ, ২৭ প্রজাতির উভচর, ৫৪ প্রজাতির সরিসৃপ, ২৪৩ প্রজাতির পাখী এবং ৪৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে (সূত্রঃ ঋববৎড়ু, গ.গ. ২০১৩. ইরড়ফরাবৎংরঃু ড়ভ চৎড়ঃবপঃবফ অৎবধং ড়ভ ইধহমষধফবংয)। বড় বৃক্ষের মধ্যে গর্জন, তেলশুর, চাপালিশ, সিভিট, মুস প্রভৃতি এবং বন্যপ্রাণীর মধ্যে অনন্য সাধারণ এশিয়ান হাতী, মায়া হরিণ, মেছো বাঘ, গন্ধ গোকুল, সজারু, শিয়াল, বন্য শুকর, বানর, হনুমান, ধনেশ পাখী, বড় আকারের ধূসর কাঠ ঠোকরা অন্যতম।আয়তনের দিক থেকে এ অভয়ারণ্য আমাদের দেশের তৃতীয় বৃহত্তম। এ অভয়ারণ্যের ল্যান্ডস্কেপ শুধু বন-বাদর ও বন্যপ্রাণীর বৈচিত্র্যপূর্ণ সমাহারই নয়, বরং এখানকার প্রাকৃতিক ঝর্ণাধারা, ৭০০ মিটার উঁচু খাড়া পাহাড়, ঐতিহাসিক কুদুম গুহা, সূউচ্চ টৈংগা ও নেটং পাহাড় প্রভৃতি পর্যটকদের আকর্ষন করে নিরন্তর টেকনাফ আসলে বন্যহাতীর দেখা মিলবেই। টেকনাফ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নেটং হিল এবং বাহারছড়া হিলের উপর থেকে একসাথে সাগর, নদী ও মায়ানমার সীমান্ত দেখা যায়, পৃথিবীর খুব কম দেশেই এ সুযোগ মেলে। বনভূমি জবরদখল ও অবৈধভাবে গাছ কর্তণ এ বনের প্রধান সমস্যা । সেটি মোকাবিলা করার জন্য ২০০৪ সালে এখানে  সহ ব্যবস্থাপনার প্রবর্তন করা হয়। সহ ব্যবস্থাপনা কমিটি  মাধ্যমে বনজ সম্পদ রক্ষা এবং রক্ষিত বনের জীব বৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। ইতোমধ্যে উক্ত অঞ্চলের জনসাধারনের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে । বনজ সম্পদ রক্ষার্থে বন পাহারা দল গঠন করা হয়েছে। বন কর্মীদের নেতৃত্বাধীন এই দলগুলি নিয়মিত টহল প্রদান করে বনজ সম্পদ রক্ষায় অবদান রাখছে। সহ-ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম এবং ঈড়সসঁহরঃু নধংবফ ভড়ৎবংঃ পড়হংবৎাধঃরড়হ এর স্বীকৃতিস্বরূপ টেকনাফ সহব্যবস্থাপনা কমিটি ২০১০ সালে ’ওয়াংগিরি মাতাই’  পুরস্কার লাভ করেন, যা উক্ত কমিটির পক্ষে খুরশীদা বেগম (মহিলা সিপিজি দলের সভাপতি) গ্রহণ করেন।

 

ইনানী রক্ষিত বন এলাকা (প্রস্তাবিত)ঃ

 ইনানী রেঞ্জের ৪টি বিট, উখিয়া রেঞ্জের ৫টি বিট এবং হোয়াইক্যং রেঞ্জের মনখালী বিটের ১৭৫১৫.৬৬ বনভুমি নিয়ে  ইনানী রক্ষিত বন  ঘোষণার জন্য প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে। ইনানী রক্ষিত বন এলাকায় জরীপে ৩১৬ ধরনের বন্যপ্রানী এবং ৩১৭ প্রজাতির উদ্ভিদরাজির সন্ধান পাওয়া গেছে। অবৈধ বসতি স্থাপন, বন উজাড় করে কৃষি জমিতে রুপান্তর, নির্বিচারে গাছ কাটা, অপরিকল্পিত ভাবে বনজ সম্পদ আহরণ, শুস্ক মৌসুমে বনে আগুন দিয়ে জুম চাষ, পাহাড় কাটা, বন থেকে পাথর উত্তোলন, অবাধে বন্যপ্রাণী হত্যা, ইত্যাদি কারণে বন উজাড় হচ্ছে।  এ প্রেক্ষিতে ২০০৯ সালে বন বিভাগ, আরণ্যক ফাউন্ডেশন ও স্থানীয় বেসরকারী সংস্থা(এনজিও) শেড ইনানী রক্ষিত বনাঞ্চল সহ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করে। বর্তমানে সেথানে গাছ চুরি এবং জবরদখলের প্রবনতা কমে গেছে। জরুরীভিত্তিকে সেটি জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা প্রয়োজন।

 

 

রাজারকূল বোটানিক্যাল গার্ডেন, রাজারকূল কক্সবাজারঃ

কক্সবাজারের বৃক্ষশূন্য ন্যাড়া পাহাড়ে প্রাণের স্পন্দন ফিরিয়ে আনতে পাহাড়ের কিছু অংশে পরিকল্পিত বনায়ন ও সংরক্ষণের মাধ্যমে দেশী-বিদেশী বিরল ও বিলুপ্ত প্রায় উদ্ভিদরাজির বীজ মাতৃগাছের আধার সৃষ্টি বা জীনব্যাংক স্থাপনের পাশাপাশি জীববৈচিত্র পুনরুদ্ধার, প্রাকৃতিক বনের আবহ ফিরিয়ে আনা, বৈজ্ঞানিক গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি সর্বোপরি পরিবেশ বান্ধব পর্যটনের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষে বাংলাদেশ বন অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার রাজারকূলে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে কক্সবাজার বোটানিক্যাল গার্ডেন, রাজারকূল স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করে।  রাজারকূল মৌজার রামকোট ব্লকে রামু-মরিচ্যা সড়কের পূর্ব পাশে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের আইসোলেটেড নারিকেল বাগান এবং  ৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর সংলগ্ন ৬৫.০ একর সংরক্ষিত বনভূমিতে উক্ত বোটানিক্যাল গার্ডেনটি অবস্থিত। প্রাথমিক ভাবে ১৬.০ একর জায়গায় বনায়ন ও বিভিন্ন পরিবেশ বান্ধব পর্যটনের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষে "ঊপড়-ৎবংঃড়ৎধঃরড়হ ড়ভ ঐরষষ ঋড়ৎবংঃ, ঈড়ী'ং ইধুধৎ (কক্সবাজার জেলার পাহাড়ী বনের প্রাণ বৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার)” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২৪৪.০ লক্ষ টাকায় কক্সবাজার বোটানিক্যাল গার্ডেন, রাজারকূল স্থাপনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে প্রকল্পটি সংশোধন করে ৫৫০.০ লক্ষ টাকায় পর্যটনের আরো কিছু সুযোগ বৃদ্ধি ও বনায়নের মাধ্যমে বর্তমানে ৬৫.০ একর জায়গায় গার্ডেনের কলেবর বৃদ্ধি করা হয়েছে। উক্ত প্রকল্পের আওতায় অফিস ভবন, ব্যারাক,  চেঞ্জিং রুম কাম পাবলিক টয়লেট, ওভারহেড ট্যাংকিসহ পাম্প হাউজ, রেস্টিং সেড, এ্যাপ্রোচ রোড, পার্কিং এরিয়া, ড্রেনেজ সিস্টেম, পানি সরবারাহ লাইন, আরসিসি বেঞ্চ, আরসিসি বেঞ্চ, বাঁধ, ব্রিজ, জলাশয়/লেক সংস্কার, বাউন্ডারী ওয়াল, কাটা তারের বেড়া, পরিখা খনন, স্থায়ী নার্সারী স্থাপন ইত্যাদি পূর্ত কাজ করা হয়েছে। এছাড়া উদ্যানকে আকর্ষনীয় করার জন্য বিভিন্ন প্রজাতির দেশি-বিদেশি গোলাপ, এক বর্ষজীবি এবং বহু বর্ষজীবি ফুলের বাগান সৃজণ করা হয়। তাছাড়াও সেখানে জীনপুল/ মানম্পন্ন মাতৃ গাছের বাগান সৃজণের জন্য পলাশ, কাঞ্চন, নাগেশ্বর, বান্দরহোলা, বুদ্ধু নারিকেল, অশোক, বৈলাম, বাটনা, চম্পা, তেজবহল, বট, পাকুড়, গোদা, গুটগুটিয়াসহ আরও অন্যান্য বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় গাছ রোপণ করা হয়েছে। উক্ত গার্ডেনটি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর সেটি কক্সবাজারে আগত সারা বছর দেশী বিদেশী পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষনে সক্ষম হয়েছে। প্রতিদিন সেখানে অগনিত ভ্রমণ পিপাসু মানুষ ভীড় জমায়। সেখানে হারিয়ে যাওয়া গাছের প্রজাতিসমূহ ফিরে আসতে শুরু করায় প্রাক্রতিক বনের আবহ ফিরে আসতে শুরু করেছে। উক্ত গার্ডেনটি ৫০০ একরে বর্ধিত করার সুযোগ রয়েছে। নতুনভাবে প্রকল্প গ্রহণ করে গার্ডেনটির কলেবর বৃদ্ধি করতে পারলে সেটি স্বয়ংসম্পূর্ন বোটানিক্যাল গার্ডেন হিসেবে গড়ে উঠবে।

 

সামাজিক বনায়নে উপকারভোগীদের লভ্যাংশ বন্টনঃ

            সম্প্রতি বৃক্ষ শুণ্য বনভূমিতে পূণঃবনায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও বৃক্ষহীন বনভূমির তুলনায় তা নগন্য। এ বিষয়ে নুতন প্রকল্প প্রনয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বিশেষত জবরদখল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ইত্যেকার বনভূমিতে জরুরী ভিত্তিতে বনায়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

 

            এ বন বিভাগের উখিয়া রেঞ্জের উখিয়া বিট, উখিয়ারঘাট বিট, থাইনখালী বিট ও মোছারখোলা টহল ফাঁড়িতে, শিলখালী রেঞ্জের শিলখালী বিট, হোয়াইক্যং রেঞ্জের হোয়াইক্যং, মনখালী ও রইক্ষ্যং বিট, পানেরছড়া রেঞ্জের পানেরছড়া ও তুলাবাগান বিট, রাজারকুল রেঞ্জের রাজারকুল, দারিয়ারদীঘি ও আপাররেজু বিট, ধোয়াপালং রেঞ্জের ধোয়াপালং ও খুনিয়াপালং বিট, টেকনাফ রেঞ্জের সদর, মোচনী, হ্নীলা ও মধ্যহ্নীলা বিট, ইনানী রেঞ্জের, রাজাপালং, সোনয়াখালী, ইনানী বিটের ১৯৯৮-৯৯ সনের পি.এফ.ডি ও ২০০২-০৩,  ২০০৩-০৪ ও ২০০৫-০৬ সনের সামাজিক বনায়নের খাড়া গাছ কর্তন অব্যহত রয়েছে ২০০২-০৩ আর্থিক সন হতে সামাজিক বনায়নের কার্যক্রম শুরু করেন, যা ইতিমধ্যে কিছু কিছু বাগানের ১ম আবর্তকাল শেষ হয়েছে। এছাড়া কর্তিত বাগানে টি.এফ.এফ এর অর্থ দিয়ে ২য় আবর্তের বাগান সৃজনের কার্যক্রমও অব্যাহত আছে। নিম্মে সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের লভ্যাংশ প্রদানের বিবরণ প্রদত্ত হলো ঃ

 

সমস্যাবলী ও সম্ভাব্য সমাধান ঃ

 

অপ্রতুল জনবল ও প্রশাসনিক এলাকার পুনর্বিন্যাস ঃ

            কক্সবাজার দক্ষিন বন বিভাগের ১০টি রেঞ্জ ও ১টি বীজতলা কেন্দ্রের ৫০টি বিট/টহল ফাঁড়ির নিয়ন্ত্রনাধীন মোট বনভূমির পরিমন ৪৪১৭৪.৯১ হেক্টর। এ বন বিভাগের অনুমোদিত জনবলের সংখ্যা ৩১৭ জন হলেও পুরনকৃত জনবলের সংখ্যা ২০৯ জন। এই বিভাগের মোট জনবলের ৬৫.৯৩% পদ খালি। এই অপ্রতুল জনবল দিয়ে এত বিশাল বনভূমির রক্ষনাবেক্ষণ দুরহ ব্যাপার। তাই অতিসত্বর শুন্য পদ পুরন এবং অত্র বন বিভাগের বনভূমির আনুপাতিক হারে জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি বিট/রেঞ্জের প্রশাসনিক এলাকা ক্ষেত্র বিশেষে পুন: বিন্যাস ( আয়তনের দিক থেকে বড় বিট/রেঞ্জ ভেঙ্গে একাধিক বিট/রেঞ্জ) করা যেতে পারে।

 

জবরদখলকৃত বনভূমির উদ্ধার ঃ

           

অত্র কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের আওতাধীন সরকারী বনাঞ্চলে ১৯৭০-১৯৭১ সন হতে অবৈধ ভাবে রোহিঙ্গা ও আশ্রয়হীন জনগন প্রাকৃতিক বিভিন্ন সমস্যাদির কারণে সরকারী বন ভূমি জবরদখল করে  বসবাস শুরু করে। পরবর্তীতে ১৯৯১ সনে প্রলংকারী ঘূর্ণিঝড়/জলোচ্ছ্বাসের সময় এবং ১৯৯১-৯২ সনে বার্মার রাজনৈতিক গোলযোগের কারণে বহুলোক/ রোহিঙ্গা পাহাড়ী বনভূমিতে আশ্রয় গ্রহণ করে এবং দিন দিন এ প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেও কিছু কিছু বনভূমি জবরদখল হয়। জবরদখল এর প্রবণতা এখনও বিদ্যমান। জবরদখল উচ্ছেদে প্রশাসন সহ সকলের একটি সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। বনভূমি জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ এবং জবরদখল রোধে কার্যকর নতুন আইন প্রনয়ন ও তার প্রয়োগ নিশ্চিত করা। জবরদখলকৃত বনভূমির পরিমাণ ৭০৫৩.৬৬ হেক্টর জবরদখলকারীর সংখ্যা ২২৮৩২ জন, এ পর্যন্ত ১১৩১.৪৪ হেঃ বনভূমি উচ্ছেদ করা হয়েছে।

 

প্রশাসনের সহিত ভূমি বিষয়ক দ্বন্দ্ব ঃ

            কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের অধিকাংশ রক্ষিত বনভূমি বাংলাদেশ জরীপে (বি.এস) ১ নং খাস খতিয়ানে অর্ন্তভূক্ত হয়। বন বিভাগের ভূমি রেকর্ড/জরীপের সুষ্ঠু দিক নির্দেশনা থাকা সত্বেও  সেটি জরীপ বিভাগ কর্তৃক যথাযথভাবে পালন না করায় এ ধরণের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। উক্ত রক্ষিত বন  জেলা প্রশাসন কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি/সংস্থাকে স্বল্প/দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত দেয়া হচ্ছে। এ বন বিভাগের ঝিলংজা মৌজার ৬১৩.৪৩ একর রক্ষিত বনভূমি বন অধিদপ্তর তথা পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অজ্ঞাতে  ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক অবমুক্ত করা হয়। উক্ত অবমুক্তির আদেশ বাতিল করার জন্য পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হতে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও সে বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। উক্ত ভূমির মধ্যে  আরএস ৮০০১ দাগের(বিএস দাগ নং- ২০১৬৩)  দাগের ৫১.০ একর কক্সবাজার জেলা কালেক্টরেট কর্মকর্ত/কর্মচারী এবং  আর এস ৬৯২ দাগের (বিএস দাগ নং- ২৫০১)  দাগের ৫.০ জমি চট্্রগ্রাম ভেটেরিনারী ও এনিম্যাল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সস্টি্িটউট অব কোস্টাল বায়োডাইভারসিটি এন্ড মেরিন ফিশারিজ  এর নামে দৗর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত প্রদান করা হয়। এছাড়া রামু উপজেলার খুনিয়াপালং মৌজার  আর এস দাগ নং ৬০১ দাগের(বিএস দাগ নং- ১৪৯৪)  ১৫.৭০ একর রক্ষিত বনভূমি শহীদ জাফর আলম ক্যাডেট কলেজের নামে দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত প্রদান করা হয়। এ ক্ষেত্রে বন বিভাগকে কোন প্রকার অবগত  করা হয়নি। রেকর্ড সংশোধনের মামলার আলোকে খতিয়ান পরিবর্তন করার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করা হলেও  সংশোধনের কাজ করা হয়নি। ফলে ভূমির মালিকানা নিয়ে মাঠ পর্যায়ে তীব্র দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে রক্ষিত বনভূমি দখলের প্রবনতাও বাড়ছে।

 

মেরিন ড্রাইভ রোড নির্মাণঃ

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ১৬ ইসিবি (ঊহমরহববৎ ঈড়হংঃৎঁপঃরড়হ ইধঃঃধষরড়হ) কর্তৃক কক্সবাজার জেলার কলাতলী সৈকত হতে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত  তিনটি ফেইজে ৯০ কিঃ মিটারেরও অধিক মেরিন ড্রাইভ রোড নির্মাণ করা হচ্ছে। উক্ত রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় মাটি বিভিন্ন সময় বন বিভাগের গেজেটভূক্ত বনভূমির পাহাড়/টিলা অননুমোদিতভাবে কর্তন করে মাটি সংগ্রহ করা হয়। উক্ত সড়ক নির্মাণের ২য় পর্যায়ে ইনানী হতে শিলখালী পর্যন্ত রাস্তা তৈরীর জন্য বন বিভাগের আপত্তি উপেক্ষা করে বন বিভাগের গেজেটভূক্ত সংরক্ষিত/রক্ষিত বনভূমির পাহাড় নির্বিচারে কর্তন করায় এ বিভাগ হতে একাধিকবার স্থিরচিত্রসহ প্রতিবেদন দাখিল করা হলেও কোন কার্যকর ব্যবস্থা গৃহিত হয়নি। পরবর্তীতে মেরিন ড্রাইভ রোডের তৃতীয় পর্যায়ে শিলখালী - টেকনাফ অংশে নির্মাণ কাজের জন্য বন বিভাগের বনভূমি হতে মাটি সংগ্রহ না করার জন্য বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, কক্সবাজার দক্ষিন বন বিভাগ ১৬ ইসিবির অধিনায়কের সাথে সাক্ষাৎ করে ব্যক্তিগতভাবে  অনুরোধ করলেও  ইসিবি বন বিভাগের বনভূমি হতে মাটি সংগ্রহ করে। উক্ত বিষয়ে একাধিকবার সচিত্র প্রতিবেদন প্রেরণ করার প্রেক্ষিতে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় কর্তৃক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় অনুরোধ করা হলেও  এখনও বনভূমি হতে মাটি সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে।

 

বাংলাদেশ- মায়ানমার মৈত্রী সড়ক নির্মাণঃ

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ ইসিবি কর্তৃক বাংলাদেশ - মায়ানমার মৈত্রী সড়ক (বালুখালী-ঘুমধুম) নির্মাণেরকল্পে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য প্রস্তাবিত ভূমির মধ্যে এ বন বিভাগের অধীন উখিয়া রেঞ্জের উখিয়ারঘাট বিটের উখিয়ারঘাট মৌজার  বি.এস দাগ নং- ১৩১ ( তুলনামূলক আর এস দাগ ১৬৫ ) দাগের ১.৪২ একর ভূমি রক্ষিত বনভূমি  ব্যবহার করা হবে। উক্ত ভূমি মূলতঃ পাহাড় শ্রেণী এবং সেখানে ৭১টি গর্জনসহ বিভিন্ন প্রজাতির ৯৫টি গাছ রয়েছে। রাস্তার মূল ডিপিপি/এ্যালাইনমেন্টে উক্ত বনভূমির উল্লেখ নেই । তাছাড়া এ বিষয়ে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি নেয়া হয়নি। বিষয়টি বন অধিদপ্তরের পক্ষ হতে  পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হলেও অদ্যাবধি সেটি ব্যবহারের কোন অনুমতি দেয়া হয়নি। তদুপরি ১৬ ইসিবি কর্তৃক উক্ত বনভূমির পাহাড় ও গাছ কর্তণ করা হয়েছে। 

 

জেলা প্রশাসন কর্তৃক বাজারের পেরিফেরি ঘোষণাঃ

বন বিভাগের গেজেটভূক্ত বনভূমি অবমুক্ত না করে অন্য কোন কাজে ব্যবহারের সুযোগ না থাকলেও জেলা প্রশাসন কর্তৃক বন বিভাগের রক্ষিত/সংরক্ষিত বনভূমি বাজারের পেরিফেরি ঘোষণা করা হয়। এ বন বিভাগের কক্সবাজার রেঞ্জের হিমছড়ির জাতীয় উদ্যানের  সংরক্ষিত ৪.৮০ ছড়া/বালুচরা/পাহাড় শ্রেণীর একর সংরক্ষিত বনভূমি( বিএস ও আর এস জরিপে বন বিভাগের নামে ২ নং খতিয়ানে রেকর্ডভূক্ত) ২ নং খতিয়ান হতে ১ নং খতিয়ানে এনে ২০১০ জেলা প্রশাসন কর্তৃক বাজারের পেরিফেরি ঘোষণা করা হয়।  সেটি  বাতিলের জন্য একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও কোন ব্যবস্থা গৃহিত হয়নি। এ প্রেক্ষিতে সেখানে জবরদখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠে। এ প্রেক্ষিতে গত ১৮/৯/১৬ তারিখে  জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয় । উচ্ছেদ অভিযান শেষে কক্সবাজার সদর ও রামু ( কক্সবাজার-৩) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য উক্ত বিষয়ে কৈফিয়ত দাবী করেন। পওে ৩০/৪০ জন সন্ত্রাসী হামলা করে মালামালসহ ২টি ডাম্পার জোর করে নিয়ে হিমছড়ি পিকনিক স্পটে নিয়ে আনলোড করে, ডাম্পার দুটি ভাংচুর করে সামনের ও পাশের গ্লাস নষ্ট করে ও গাড়ী দুইটির ২ জন ড্রাইভার ও ১ জন হেলপারকে প্রহার করে মারাতœক আহত করে এবং  পরবর্তীতে পিকনিক স্পটের কাউন্টারে বিট কর্মকর্তাসহ অন্যান্য বন কর্মচারীদের উপর হামলা চালায়। জেলা প্রশাসকের পরামর্শ মোতাবেক উক্ত বিষয়ে রামু থানায় একটি জিডি করা হয়। 

 

পাহাড় কাটা ঃ

            দীর্ঘ দিন যাবৎ এ অঞ্চলের লোকজন অবৈধ ভাবে পাহাড় দখল করে বসবাস করছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের সহযোগিতা নিয়ে ঝুঁকিপূর্নদের সরানো হয়। যদিও সহজে তাদেরকে সরানো যায় না। আবার সাময়িক ভাবে সরানো গেলেও অল্প দিন পরে পুনরায় চলে আসে। যে সকল পাহাড় কাটা হয় তার মধ্যে বন বিভাগের পাহাড় ছাড়াও জেলা প্রশাসনের পাহাড় ও জোত ভূমিও আছে। তবে যে কোন পাহাড়ই হোক না কেন তা কাটা দন্ডনীয় অপরাধ। বন বিভাগ কর্তৃক পাহাড় কাটা রোধ কল্পে অভিযান অব্যহত আছে। কিন্তু পাহাড় কাটা থেমে নেই। কাজেই এটা রোধ কল্পে শুধু বন বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের অভিযানই চুড়ান্ত সমাধান নয়। কারন অনেক প্রভাবশালী মহলও এর পেছনে জড়িত। তাই অত্র জেলায় পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হলে বসবাসকারী ও মদদদানকারী সকলের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা থাকতে হবে। আর এ জন্য বন বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন সহ জেলার সকল মাননীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, সুশীল সমাজ ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ আলোচনার মাধ্যমে একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে।

 

অবৈধ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী সংক্রান্ত সমস্যাঃ

১।         মায়ানমার-বাংলাদশেরে সীমানা দর্ঘ্যৈ ২৭১ কঃি মঃি । এর মধ্যে নাফ নদীর মাধ্যমে চহ্নিতি ৬৪ কঃিমঃি এবং অবশষ্টি ২০৮ কঃিমঃি উচু নীচু ভূমি দয়িে বভিাজতি। সীমান্ত এলাকায় উভয় দশেরে ভূ-প্রকৃতি সাদৃশ্যমান হওয়ায় কোন কোন অংশে বাংলাদশে-মায়ানমারকে খালি চোখে পৃথক করার কোন সুযোগ নইে।  মায়ানমার অংশরে অধকিাংশ স্থানে কাঁটাতাররে বড়ো থাকলওে বাংলাদশে অংশে প্রাকৃতকি বাউন্ডারী ভন্নি অন্য কোন প্রতবিন্ধক নইে। ফলে নাফ নদীর অংশ দয়িে জলপথে এবং অন্যান্য অংশ দয়িে পায়ে হঁেটে সহজইে মায়ানমার হতে বাংলাদশেে প্রবশে করা যায়।

 

 ২।        মায়ানমার এর রাখাইন প্রদশেে রাজনতৈকি অস্থতিশিীলতার জন্য সখোনকার নর্যিাততি মুসলমি জনগোষ্ঠি বভিন্নি সময়ে সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদশেে আগমন কর।ে পরর্বতীতে তাদরেকে কক্সবাজাররে উখয়িা উপজলোর কুতুপালং ও টকেনাফ উপজলোর নয়াপাড়া রজেস্টর্িাড শরর্নাথী ক্যাম্পে পুর্নবাসন করা হয়। এর বাইরওে  উখয়িা জলোর কুতুপালং ও টকেনাফরে লদো আনরজেস্টর্িাড শরর্নাথী ক্যাম্পওে রোহঙ্গিা জনগোষ্ঠি বসতি স্থাপন কর।ে উক্ত ক্যাম্প ৪টি  কক্সবাজার দক্ষণি  বন বভিাগরে গজেটেভূক্ত সংরক্ষতি/রক্ষতি বনভূমতিে অবস্থতি। উক্ত জনগোষ্ঠি বনভূমতিে বসতি স্থাপন করার ফলে একদকিে যমেন বনভূমি জবরদখল হয়ে যায় অন্যদকিে তাদরে জীবকিার বকিল্প কোন ব্যবস্থা না থাকায় বনভূমরি গাছ র্কতন কর।ে শরর্নাথী ক্যাম্প ও বনাঞ্চলে বসবাসকারী  রোহঙ্গিারা বভিন্নি ধরনরে অপরাধ র্কমকান্ড ছাড়াও বন ও পরবিশেরে ব্যপক ক্ষতি সাধন করে আসছ।ে তন্মধ্যে অন্যতম ক্ষতকির দকিগুলো নম্নিরূপঃ

          ব্যাপক রোহঙ্গিা জনগোষ্ঠীর জ্বালানীর চাহদিা মটোতে বনভূমি হতে জ্বালানী সংগ্রহ করা।

          বনভূমরি পাহাড় হতে মাটি র্কতণ করে বক্রিি করা।

          বনভূমি হতে কাঠ ও অন্যান্য বনজদ্রব্য অবধৈভাবে সংগ্রহ  ও পাচার করা।

          স্থানীয় প্রভাবশালী/কুচক্রমিহল বনভূমি জবরদখলসহ অন্যান্য অপরাধমূলক র্কমকান্ডে রোহঙ্গিাদরে ব্যবহার করা।

          স্থানীয় কাঠ চোর/প্রভাবশালী ব্যক্তরিা অবধৈভাবে গাছ র্কতন ও পাচাররে কাজে সস্তা দামরে শ্রমকি হসিাবে রোহঙ্গিাদরে ব্যবহার করা।

          রোহঙ্গিাদরে সংখ্যা অত্যধকি হওয়ায় (বশিষে করে অনবিন্ধতি)গণস্বাস্থ্য, পয়:নষ্কিাশন, সামাজকি র্কমকান্ড, গণযোগাযোগ ইত্যাদরি ক্ষত্রেে পরবিশেরে উপর বরিূপ প্রভাব পড়।ে

          রোহঙ্গিাদরে (বশিষে করে অনবিন্ধতি) দ্বারা অপরাধ র্কমকান্ড সংগঠতি হওয়ার পরও সঠকি নাম ঠকিানার অভাবে অপরাধীকে যথাযথ সনাক্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অধকিাংশ ক্ষত্রেে দূরূহ  হয়ে দাড়ায়।

 

৩।         কন্তিু মায়ানমার হতে রোহঙ্গিাদরে বাংলাদশেে আগমন অব্যাহত থাকায় প্রতনিয়িত বনভূমতিে বসতি স্থাপনরে পরমিান বৃদ্ধি হওয়ায় সরজেমনিে তদন্ত করে পুনরায় প্রতবিদেন প্রদানরে জন্য অনুরোধ করা হলে তারা সরজেমনিে তদন্ত করে প্রতবিদেন দাখলি করনে। উক্ত প্রতবিদেন মোতাবকে ২৫/৮/১৭ হতে ৫/৩/১৮ সময়ে  ৬,৫১,৮২০ জন রোহঙ্গিা  কক্সবাজার  দক্ষণি বন বভিাগরে ৪৩১৮.১০ একর বনভূমতিে বসবাস করছলি। বসতি স্থাপনরে ফলে ১৯৯৯.৫০ একর বনভূমরি সৃজতি বন  (প্রধানত সামাজকি বনায়ন) এবং ২৩১৮.৬০ একর প্রাকৃতকি বন ধ্বংস হয়ে যায় । সৃজতি বনরে ক্ষত্রেে বনজসম্পদরে ক্ষতরি পরমিান ২১৩,৮৮,৫৩,৪১৪/-টাকা। ২৩১৮.৬০ একর প্রাকৃতকি বন মূলত ক্ষয়ষ্ণিু প্রাকৃতকি বন যখোনে বক্ষিপ্তিভাবে কছিু প্রাকৃতকি গাছ , লতা, গুল্ম, সানগ্রাস, উলুফুল, বাঁশ, বতে, ঔষধগিাছ সহ অন্যান্য আগাছা জাতীয় প্রজাতি ছলি। প্রাকৃতকি বনরে আনুমানকি ক্ষতি ১৯৭,৪০,০৯,২৫৭/- টাকা( এক্ষত্রেে ক্ষয়ক্ষতি নরিূপণ করার জন্য  উপকূলীয় বন বভিাগ চট্টগ্রামরে মহশেখালী পাহাড়ী বনে ঝচগ প্রকল্পরে জন্য ক্ষয়ক্ষতি নরিূপণরে জন্য বন সংরক্ষক, চট্টগ্রাম র্কতৃক গঠতি কমটিরি প্রতবিদেনরে সাহায্য নয়ো হয়ছে)ে। এ ক্ষত্রেে মোট ক্ষতরি পরমিান ৪১১,২৮,৬২,৬৭১/-। উল্লখ্যে, দখলকৃত এলাকা সরজেমনিে ঘুরে সীমানা বরাবর সুবধিাজনক স্থানে জপিএিস এর মাধ্যমে ডধুঢ়ড়রহঃ  (ষড়হমরঃঁফব ধহফ ষধঃরঃঁফব) গ্রহণ করে পড়সঢ়ঁঃবৎ ংড়ভঃধিৎব এর মাধ্যমে মোট এরয়িার পরমিান হসিবে করা হয়ছেে বধিায় সঠকিতার ক্ষত্রেে কছিুটা তারতম্য হতে পার।ে  তবে  পরবিশে ও জীববচৈত্রিরে ক্ষতি এ দপ্তর র্কতৃক গঠতি কমটিি নর্ধিারন করা হয়ন।ি

 

ছবি


সংযুক্তি



Share with :

Facebook Twitter